ফ্রিল্যান্সিং এ কোন কাজের চাহিদা বেশি-২০২১?/ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ কী কী??(freelancing works list 2021)

ফ্রিল্যান্সিং এ কোন কাজের চাহিদা বেশি??

বর্তমান সময়ের  আলোচিত একটি বিষয় হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং।এবং সেই সাথে সবাই “ফ্রিল্যান্সিং এ কোন কাজের চাহিদা বেশি?”এই প্রশ্নটির উত্তর খুজতে থাকে। দিনদিন  ছাত্রছাত্রী সহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ দিন দিন ফ্রিল্যান্সের দিকে ঝুকে পড়ছে।সবাই অনেক আগ্রহ দেখিয়েছে এই বিষয়টি নিয়ে।ফ্যিল্যান্সিং কি সেটা তো আমরা আগের ব্লগেই বুঝতে পেরেছি। তাই আজ আমরা জানব ফ্রিল্যান্সিং এর কাজসমূহ কী কী?? এবং কোন কাজ গুলো বর্তমানে প্রচলিত এবং চাহিদা আছে??সে কাজ গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।চলুন তাহলে জেনে নিই কাজগুলো কী কী??

ফ্রিল্যান্সিং এ কোন কাজের চাহিদা বেশি-২০২১?/ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ কী কী??
freelancing works list 2021

আমরা জেনেছি যে ফিল্যান্সিং একটি অনলাইন ভিত্তিক কাজ এবং এই পেশাকে মুক্ত পেশা বলা হয়ে থাকে।ফ্রিল্যান্সিং এর কাজসমূহ অনলাইন ভিত্তিক হওয়ায় এর কাজের পরিধি অনেক,যা আপনি গুনে শেষ করতে পারবেন না।তবে অবশ্য সব কাজ গুলো প্রচলিত নয় কিংবা চাহিদা সমান নয়।ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আমাদের জানতে হবে কোন কাজগুলো কেমন এবং মার্কেটপ্লেসে কোন কাজ গুলোর চাহিদা বেশি রয়েছে।তাছাড়া আমরা এমন একটি কাজ শিখলাম যে কাজের কোন চাহিদাই নেই,তাহলে কাজটি শেখাই আমাদের বৃথা হবে সেই সাথে সময় নষ্ট,শ্রম নষ্ট.টাকাও নষ্ট হতে পারে।তাই আপনার শিখা কাজটি যেন বৃথা না হয় সেজন্য আজ আমরা ১৬টি প্রচলিত এবং চাহিদা সম্পূর্ন কাজ সম্পর্কে জানব।

আরও পড়ুনঃ-freelancing কি/ফ্রিল্যান্সিং কি??কীভাবে ফ্রিল্যান্সার হবেন?নতুনরা কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন??২০২১ 

বর্তমানে প্রচলিত ও চাহিদাসম্পূর্ন কাজেন তালিকাঃ-

১)ওয়েব ডিজাইন( Web Design)

যখন HTML,CSS,JAVASCRIPT ইত্যাদির মাধ্যমে বিভিন্ন কোডিং করে একটি ওয়েবসাইটের রুপ দেওয় হয় বা ডিজাইন করা হয় তখন তাকে ওয়েব ডিজাইন বলে।

২)ওয়েব ডেভেলপমেন্ট (Web Development)

যখন কোন ব্যক্তি একটি ওয়েবসাইট ডিজাইন থেকে শুরু করে ওয়েবসাইটি গতিশীল করার মাধ্যমে কাজটি সম্পূর্ন করেন তখন তাকে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বলে।

৩)মোবাইল এ্যাপস ডেভেলপমেন্ট (Mobile Apps Development)

বিকাশ.নগদ.রকেট,ক্যামেরা,ফেসবুক,মেসেন্জার,ভিডিও,প্লেয়ার ইত্যাদি মোবাইলে বিভিন্ন এ্যাপস তৈরি এবং গতিশীল করার যাবতীয় কাজকে মোবাইল এ্যাপস ডেভেলপমেন্ট বলা হয়।

৪)ডেস্কটপ এ্যাপস ডেভেলপমেন্ট (Desktop Apps Development)

Microsoft Word, Excel, Power-Point, Anti-virus, Skype ইত্যাদি ডেস্কটপের  বিভিন্ন এ্যাপস তৈরি এবং গতিশীল করার যাবতীয় কাজকে ডেস্কটপ এ্যাপস ডেভেলপমেন্ট বলা হয়।

৫)গ্রাফিক্স ডিজাইন (Graphics Design )

ছবি বা ভিডিও সংক্রান্ত যাবতীয় কাজকে একথায় গ্রাফিক্স ডিজাইন বলা হয়।বর্তমান সময়ে সবকিছুই গ্রাফিকাস দ্বারা নির্মিত হচ্ছে।গ্রাফিক্স এর কাজের কোন শেষ নেই।এবং এর চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ছে।

৬)ছবি এডিটিং (Photo Editing)

ছবি বা ফটোর সুন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য যাবতীয় কাজ করাকে একথায় ছবি এডিটিং বলে।বর্তমান সময়ে ছবি এডিটিং একটি ফ্যাশনের মধ্যে পড়ে।এডিটিং ছাড়া ছবি মনে হয় মানান নই হয়না এমন লাগে।

৭)ভিডিও এডিটিং (Video Editing)

ভিডিওর সুন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য যাবতীয় কাজ করাকে একথায় ভিডিও এডিটিং বলে।বর্তমান সময়ে মানুষ তার সুন্দরতম মুহূর্তগুলো র্স্মতি হিসাবে রাখার জন্য ভিডিও করে রাখে এবং সেই ভিডিওর সৌন্দর্য় বৃদ্ধির জন্য এডিটিং করে থাকে।ভিডিও এডিটিং কাজের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ-সাবধান!!ভুল করেও কখনও এই ৪টি বিষয় Google এ Search করবেন না।করলেই মহাবিপদ!!!!!

৮)এস ই ও (SEO-Search Engine Optimization)

কোন পেজ বা ওয়েবসাইটকে গুগল সার্চ ইন্জিনের উপযোগী করার মাধ্যমে গুগলের প্রথম পেজে দেখানোর জন্য যাবতীয় কাজ করাকে এস ই ও বলা হয়।এস ই ও করার মাধ্যমেই ওয়েবসাইটের ভিজিটর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

৯)ডাটা এন্ট্রি (Data Entry)

বিভিন্ন রকম তথ্য থেকে নির্দিষ্ট কোন তথ্য খুজে বের করে তা ক্রমে ক্রমে সাজিয়ে লেখাকে ডাটা এন্ট্রি বলা হয়।যেমন কোন কোম্পানি কোন সালে কত মুনাফা বা ক্ষতি হয়েছে বা কোম্পানি শ্রমিকেদের নাম ঠিকানা মোবাইল নম্বর অথবা কোন স্কুলের শিক্ষার্থীদের নাম,বাবার নাম,শ্রেনি,রোল ইত্যাদি তথ্যের তালিকা করাকে বুঝায়।

১০)কার্টুন বা থ্রিডি এনিমেশন (Cartoon/3D Animation)

বিভিন্ন বিষয়ের উপর কার্টুন তৈরি করা বা চলমান কোন কিছু তৈরি করাকে কার্টুন বা থ্রিডি এনিমেশন বলা হয়।

১১)আর্কিটেচার ডিজাইন (Architecture Design)

বাসা বাড়ি,সেতু,কারখানা,ইত্যাদি তৈরির পূর্বে যে নকশা বা ডিজাইন তৈরি করা হয় তাকে আর্কিটেচার ডিজাইন বলা হয়।এবং যিনি এই ডিজাইনগুলো করে থাকে তাকে আর্কিটেক বলা হয়।

১২)গুগল এ্যাডসেন্স (Google Adsense)

গুগল এ্যাডসেন্স একটি জনপ্রিয় এবং স্থায়ী প্যাসিভ ইনকাসের উৎস।ইউটিউব এবং ওয়েবসাইটে যেসক অ্যাড দেখানো হয় এবং এই অ্যাডগুলোর মাধ্যমেই একজন ইউটিউবার কিংবা একজন ওয়েবসাইটের মালিক ইনকাম করে থাকে।আর এই অ্যাড আসে গুগল এ্যাডসেন্স একাউন্ট এর মাধ্যমে।

১৩)সি পি এ মার্কেটিং (CPA Marketing)

CPA-Cost Per Action অর্থাৎ কোন একশন বা কাজ শেষ করার মাধ্যমে যে ইনকাম করা হয় তাকে সি পি এ মার্কেটিং বলা হয়।

আরও পড়ুনঃ-Cpa marketingকি?কেন শিখবCpa marketing!কিভাবে সিপিএ মার্কেটিং শুরু করব??

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কী??  কিভাবে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখব??2021


১৪)অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ সিপিএ মার্কেটিং এর মতই ।একটু ভিন্ন রকম হতে পারে ।তবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ অন্যের পন্য নিজেই বিক্রি করে কমিশন অর্জন করে ইনকাম করা বুঝায় ।

১৫)ডিজিটাল মার্কেটিং( Digital Marketing)

ডিজিটাল মার্কেটিং ও প্রায় একই রকম।উইকিপিডিয়া অনুযায়ী ডিজিটাল মার্কেটিং বলতে ডিজিটাল টেকনোলজি ব্যবহার করে যে সম্স্ত মার্কেটিং বা প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়,এবং সেটিকে বলা হয়  ডিজিটাল মার্কেটিং ।

১৬)জরিপ কাজ (Survey Work)

বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কোম্পানি নতুন পন্য বাজারে আনার জন্য জনগনের পন্যটি বিষয়ে মতামত গ্রহন করার জন্য যে জরিপ করা হয় তাকে জরিপ কাজ বলে।বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমেএই ধরনের জরিপ কাজে অংশগ্রশন করে ইনকাম করা যায়।

উপরের বর্ণিত ১৬ টি কাজ  ১৫-২০ বছর যাবত মানুষের চাহিদার তালিকায় রয়েছে বা তাদের প্রতিনিয়ত প্রয়োজন হয়ে আসছে এই কাজগুলো।

আরও পড়ুনঃ

ইমুতে এড বন্ধ করার উপায় -২০২১/ইমুতে এড বন্ধ করবেন কিভাবে?

Play Store এর Apps Memory Card এ রাখবেন কিভাবে?

Risky/dangerous android apps 2021 এই ৫ ধরনের অ্যাপস এড়িয়ে চলুন!!!!

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজগুলো অন্য দেশের মানুষদের দিয়ে কেন করিয়ে নেয়?

আমরা তো সব কাজই একে অপরকে বা এলাকার অথবা দেশের ভেতরের মানুষদের মাধ্যমে করিয়ে নিয়ে থাকি।কন্তু ফ্রিল্যান্সিং এর বেশিরভাগ কাজগুলো কেন অন্য দেশের মানুষদের দিয়ে করিয়ে নেয়??এটা কখনও ভেবে দেখেছেন কী? এই কাজ গুলো করানোর জন্য মানুষ তার শ্রম অর্থ বাচাতে দেশের মানুষ দিয়ে নয় বরং অন্যান্য দেশের মানুষদের দিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে করিয়ে নেয়।অন্যান্য দেশের মানুষেদের দিয়ে কাজটি করালে তার অর্থ ব্যায় কম হবে।কারন উন্নত দেশ গুলোর তুলনায় কম উন্নত দেশ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কাজের পারিশ্রমিক কম হয়ে থাকে।এছাড়াও টাকার মানের উপরেও কিছুটা নির্ভর করে থাকে।একটি উদাহরন হতে পারে আমেরিকা ও বাংলাদেশ।আমেরিকার মুদ্রা হিসাবে ডলার প্রচলিত,আর বাংলাদেশে টাকা প্রচলিত,আমেরিকার কোর বায়ার কাজের জন্য যদি ১০ ডলার আপনাকে দেয় তবে সেটা তার কাছে কিছুই না এমন মনে হবে।কিন্তু ঐ ১০ ডলার বাংলাদেশি টাকায় ৮৫০ টাকা যা আপনার কাছে অনেক কিছু। আর এজন্যই কিন্তু মার্কেটপ্লেসে বা বায়াররা বাংলাদেশি ফ্যিল্যান্সার দিয়ে কাজ করাতে চাই।বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাদের অন্যান্য দেশের বায়াররা বেশি টার্গেট করে থাকে।

আশা করছি আজকের ব্লগের মাধ্যমে বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এ কোন কোন কাজ গুলো বেশি প্রচলিত এবং কোন কাজগুলো চাহিদা সম্পূর্ন জানতে পারলেন।এর পরবর্তিতে আমরা প্রতেকটি কাজের বিষয়ে এক এক করে বিস্তারিত আলোচনা করব যার ফলে আপনি কোন কাজটি সম্পর্কে ভালো ধারনা অর্জন করতে পারবেন ।তবেই আপনি আপনার ভালো লাগার কাজটি নির্বাচন করতে পারবেন এবং কোনটি শিখলে আপনার জন্য ভালো হবে তাও বুঝতে পারবেন।পরবর্তি ব্লগ গুলো দেখার আমন্ত্রন রইল এবং অবশ্যই বিষয়টি শেয়ার করতে ভুলবেন না।আপনার একটি শেয়ারের মাধ্যমে অনেকে বিষয়টি জানতে পারবে।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post