মোবাইল হ্যাক থেকে বাঁচার উপায়২০২১/মোবাইল হ্যাক হয়েছে কিনা কিভাবে বুঝবেন? How to know if your phone is hacked or not 2021.


তথ্য প্রযুক্তির আর ইন্টারনেটের এই যুগে  অনেক দামি একটি জিনিস  হচ্ছে তথ্য।আর  এই তথ্য বা ইনফরমেশন কালেক্ট করতে হ্যাকারদের পাশাপাশি অনেক বড় বড় কোম্পানি বা অর্গানাইজেশন মাঠে নেমে পড়েছে। আর এখন সময়টা এমন যে আমাদের যাবতীয় সব তথ্য আমাদের স্মার্টফোনেই থাকে।নিজের পার্সনাল ছবি বা ভিডিওসহ,,ইমেইল,স্যোসাল মিডিয়ার সকল তথ্য,কল রেকর্ডস,ব্যাংকিং ইনফরমেশন সহ,সবকিছুই কিন্তু আমাদের স্মার্টফোনেই থাকে।তাই এই তথ্য বা ইনফরমেশনের জন্য হ্যাকারদের প্রথম পছন্দের জিনিস হচ্ছে আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটি।আজকের এই ব্লগের মাধ্যমে আমি আপনাদের জানাব আপনার স্মার্টফোনটি হ্যাক হয়েছে কিনা তা কিভাবে বুঝবেন এবং আপনার স্মার্টফোন যেন হ্যাক না হয় সেজন্য কি কি করতে হবে??চলুন তাহলে জেনে নিইঃ-

মোবাইল হ্যাক থেকে বাঁচার উপায়২০২১/মোবাইল হ্যাক হয়েছে কিনা কিভাবে বুঝবেন? How to know if your phone is hacked or not 2021
How to know if your phone is hacked or not 2021.

প্রথমেই আমরা জানব আমাদের ফোনটি হ্যাক হয়েছে কিনা তা জানার উপায়??

১)ইদানিং কি আপনার মনে হচ্ছে আপনার ফোনের ব্যাটারি খুব একটা ভালো ব্যাকাপ দিচ্ছে না,এর কারন কী ফোনটার ব্যাটারি পুরানো হয়ে গেছে?এরকম তো নাও হতে পারে এমনটাও তো হতে পারে কোন অ্যাপ ,আপনার অজান্তেই আপনার ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে রান করে এবং আপনার ফোনের ইনফরমেশনগুলো কোন ওয়েবসাইট বা হ্যাকারের কাছে পৌছে দিচ্ছে,আর এটার জন্যই আজকাল আপনার ব্যাটারি বেশি  ইউজ হচ্ছে আপনি ইউজ না করলেও।এখন আসলেই কি আপনার ফোনের ব্যাটারি দুর্বল হয়ে গেছে নাকি হ্যাক হয়ে গেছে তা সিউর হওয়ার জন্য অবহেলা না করে মোবাইলটি একটা  টেকনিশিয়ানকে দেখান এবং জেনে নিন আপনার মোবাইলের কোন সমস্যা আছে কিনা।

২)আপনার ফোন কি মাঝে মাঝে অটো রিস্টার্ট হয় কিংবা কোন কোন অ্যাপ কোন কথা নেই বার্তা নেই অটোমেটিক অন বা অফ হয়ে যায়।যদি এমন টা অনুমান করে থাকেন তাহলে কিন্তু সাবধান হয়ে যাওয়া উচিৎ।

৩)আপনার ফোনটা কি রিসেন্টলি খুব গরম হয়ে যাচ্ছে,?ফোনটি বেশি ব্যবহার করলে গরম হবে এটাই কিন্তু স্বাভাবিক।কিন্তু ব্যাপারটি যদি এরকম হয় আপনি খুব বেশি ফোন ব্যবহার করছেন না,কিংবা একেবারেই ব্যবহার করছেন না,ফোনটা হয়ত রেখে দিয়েছেন তবুও দেখছেন ফোনটা গরম হয়ে যাচ্ছে। এখন হতে পারে ফোনটা হ্যাকড হয়ে গেছে,আপনি ব্যবহার করেন আর না করেন হ্যাকার কিন্তু ফোনটা ঠিকই ব্যবহার করছে।সুতরাং সে রিমোটলি যখন ব্যবহার করছেন তখন ফোন গরম হয়ে যাবে।ফোন হ্যাক হওয়ার এটাও একটা কারন হতে পারে যে বিনা কারনে ফোন গরম হয়ে যায়।

৪)আপনার ফোনটা কি আজকাল আপনার করা সেটিংস অনুযায়ি চলছে না,মানে নিজে নিজে ভলিইম লেভেল আপডাউন করছে বা ব্রাইটনেস কমছে বাড়ছে কিংবা আরও এরকম অদ্ভুদ কিছু কাজ করছে?আপনি হয়ত এগুলোকে টেকনিক্যাল ফল্ট ভেবে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।কিন্তু এসব ছোট খাট সমস্যাও কিন্তু হ্যাক হওয়া ফোনের একটি লক্ষন হতে পারে।এক্ষেত্রে ফোনের কোন টেকনিক্যাল সমস্যা আছে কি না তা একটি টেকনিশিয়ান দিয়ে সিউর হয়ে নিবেন।

৫)আপনার ফোনের যে ভয়েস কোয়ালিটি অর্থাৎ কল করার সময় আপনি যে ভয়েস শুনতে পান সেটা কি হঠাৎ করেই খারাপ হয়ে যাচ্ছে ,মানে যখন কারো সাথে ফোনে কথা বলছেন তখন আগের চেয়ে কি একটু কম শুনতে পাচ্ছেন,কিংবা কোন শদ্ব শুনছেন বা ক্লিয়ার শুনতে পাচ্ছেন না এমন হলে ভেবে নিবেন না যে আপনার ফোনের মাইক্রোফোন ,ইয়ারপিস কিংবা আপনার এলাকার নেটওয়ার্ক এর কোন সমস্যা!!! বিষয়টা এরকমও হতে পারে যে আপনার ফোন অলরেডি হ্যাকড!! কেউ গোপনে দুরে থেকে আপনার ফোনের সব কথাবার্তা শুনে ফেলে ।অর্থাৎ দূর থেকে কোন হ্যাকার আপনি কার সাথে কোথায় কখন কী কথা বলছেন সবকিছুই শুনে নেয়। এসমস্ত ব্যাপার গুলোকে ছোট খাটো ব্যাপার বলে অবহেলা করবেন না ।

৬) আপনার ফোনে কি খুব বেশি  অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসে বা দেশের বাইরের নাম্বার থেকে মেসেজ আসে তাহলে সেটাও কিন্তু চিন্তার বিষয়।আর এসব ব্যাপার গুলো অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

এবার আমরা জানব কিভাবে আপনি আপনার স্মার্টফোনকে হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনঃ-

১)পাবলিক ওয়াই-ফাই বা ফ্রি  ওয়াই-ফাই ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।কারন আপনি যখন একটা নিরাপত্তা বিহীন ওয়াই-ফাই ব্যবহার করবেন তখন একজন হ্যাকার খুব সহজেই আপনার ফোনের কন্ট্রোল নিয়ে নিতে পারে।যদি নিতান্তই কোন প্রয়োজনে আপনাকে ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে হলে তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে কাজটা করবেন।

২)কখনও লোভনিয় অজানা লিংকে কিল্ক করবেন না।যেমনঃ- এতলাখ টাকা ফ্রি পাচ্ছেন বা কোন সুন্দরি মেয়ের ফেসবুক আইডি দেওয়া ,লটারি এসব লোভনিয় লিংক থেকে দূরে থাকুন।কারন এসবকিছু হ্যাকারদের নিত্য নৈমত্তিক বিষয়।একটি লিঙ্কের মাধ্যমেই আপনার ফোনের আস্কেস নিয়ে নিতে পারে।

৩)ব্রাউজার বা কোন এ্যাপপ্লিকেশনে অটো লগইন করার জন্য কোন আইডি বা পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখবেন না।কারন যদি আপনার ফোনটা হ্যাক হয়ে যায় তবে হ্যাকারের এক মূহূর্তও লাগবে না আপনার যাবতীয় সব ইনফরমেশন নিয়ে নিতে।

৪)গুগল প্লে-স্টোরের বাইরে থেকে কোন প্রকারের কোন অ্যাপ ডাউনলোড না করা।কোন অ্যাপ গুগলে যদি না পান এবং সেটা যদি আপনার নিতান্তই দরকার হয় তবে ট্রাস্টেট কোন ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে নিবেন।কারন অ্যাপগুলোর সাথে অজনা কিছু ম্যালওয়্যার দিয়ে দেওয়া হয় যা মুহুর্তের মধ্যে আপনার ফোনের ইনফরমেশন হ্যাকারের কাছে পৌছে দিতে পারে।অ্যাপ ইন্সটল করার সময় আর একটি জিনিস খেয়াল রাখবেন যে আপনি কি জাতীয় অ্যাপ ইন্সটল করছেন এবং সেই অ্যাপ আপনার থেকে কী জাতীয় পারমিশন চাচ্ছে।মনে করেন আপনি একটা গেমস ডাউনলোড দিলেন এবং আপনার কাছে পারমিশন চাচ্ছে কন্টাকসের বা ক্যামেরার বা ফাইলেরে।এরকম অ্যাপ ফোনে রাখবেন না।কারন একটা গেমস অ্যাপের এসব পারমিশন নেওয়ার দরকার হয় না।

৫)অনেকগুলো ব্রাউজার  ব্যবহার না করে একটি ব্রাউজার ব্যবহার করবেন।কারন ব্রাউজার একদিকে রান করতে আপনার র‌্যামের স্টোরেজ অনেক বেশি নেয়।অন্যদিকে কিছু কিছু ব্রাউজার আপনার ফোনের তথ্য চুরি করে হ্যাকার কে দিয়ে দেয়।এমন একটা ব্রাইজার হচ্ছে Us Beoswer ফোনের তথ্য চুরি করে তার প্রমানও মিলেছে অনেক আগেই।তাই অনেক ব্রাউজার ব্যবহার না করে একটি ট্রাস্টেট ব্রাউজার ব্যবহার করবেন।গুগল-ক্রম ব্যবহার করতে পারেন।এভাবে আপনি আপনা ফোন হ্যাক হওয়া থেকে বাচাতে পারেন।

আপনি তো জানলেন "মোবাইল হ্যাক থেকে বাঁচার উপায়২০২১/মোবাইল হ্যাক হয়েছে কিনা কিভাবে বুঝবেন?"।আপনার বন্ধুকে জানানোর দায়িত্ব কিন্তু আপনারই ।সুতরাং পোষ্টটি শেয়ার করে অবশ্যই আপনার বন্ধুকে জানাবেন।হয়ত একটি শেয়ারের জন্য আপনার প্রিয় বন্ধুটির ফোন হ্যাক হওয়া থেকে বাঁচতে পারে।

 

 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post