why phone blast?।যেসব ভুলের জন্য মোবাইল Blast হতে পারে।

বিগত কয়েক বছরে স্মার্টফোন Blast হয়ে ছোট বড় অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে এরকম  নিউজ কিংবা ভিডিও ইউটিউব বা ফেসবুকে অনেকেই দেখেছেন।স্যামসাং ও শাওমির নির্দিষ্ট কিছু মডেলের ফোন Blast হওয়ার ঘটনা তো সবাই কমবেশি জানি।যদিও ঐই মডেলের স্মার্টফোনগুলোতে এত বেশি টেকনিক্যাল সমস্যা ছিল যে ফোন কোম্পানিগুলো বাধ্য হয় সেগুলো মার্কেট থেকে সরিয়ে নিতে।আমি শুধুমাত্র উদাহরন দেওয়ার জন্যই স্যামসাংশাওমির নির্দিষ্ট কিছু মডেলের স্মার্টফোনগুলোতে টেকনিক্যাল সমস্যার কারনে যে Blast হয়েছিল সেগুলোর কথা বল্লাম।তার মানে এই না যে টেকনিক্যাল সমস্যা না থাকলে স্মার্টফোন Blast হবে না।স্মার্টফোন ব্যবহারে আপনার কিছু খারাপ অভ্যাস এবং কিছু ভুলের কারনে আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটিও কিন্তু Blast হতে পারে!!!!আর নিজের হাতে থাকা কিংবা নিজের ব্যবহার করা স্মার্টফোনটি যেন Blast না হয়,আর সেজন্য কি কি করনিয় সেটা নিয়েই আজকের ব্লগটি লেখা হয়েছে।

why phone blast?।যেসব ভুলের জন্য মোবাইল Blast হতে পারে।মোবাইলফোন বিস্ফোরন,ব্যাটারি ফুলে গেলে কি করতে হবে,মোবাইল বিস্ফোরণ হয় যেসব কারণে,সুরক্ষায় করণীয়?
why phone blast?

এখন স্মার্টফোনগুলোতে Blast হওয়ার মতো একটি জিনিসই আছে সেটা হচ্ছে তার ব্যাটারি।এপর্যন্ত যতগুলো স্মার্টফোন Blast হয়েছে তার মধ্যে দেখা গিয়েছে যে হয় ফোনটার ব্যাটারি মাত্রাতিরিক্ত গরম হয়ে Blast হয়েছে অথবা উল্টাপাল্টা চার্জার দিয়ে চার্জ দেওয়ার সময় নেগেটিভ পজেটিভ এক হয়ে অর্থাৎ সর্টসার্কিট হওয়ার কারনে Blast হয়েছে অথবা ওভার চার্জিং এর কারনে ব্যাটারি ফুলে গিয়ে তারপর জিনিসটা Blast হয়েছে।তারমানে দেখা যাচ্ছে ঘুরে ফিরে সমস্যাটা কিন্তু ব্যাটারি থেকেই হচ্ছে।আমরা এখন জানব কিভাবে আমরা আমাদের প্রিয় স্মার্টফোনটি Blast হওয়ার মতো দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারি???চলুন তাহলে জেনে নিইঃ-


১)চার্জার বা চার্জিং এড্যাপতারঃ-প্রতেকটি ফোনের সাথেই কিন্তু এটি নির্দিষ্ট চার্জার বা চার্জিং এড্যাপতার দেয়া থাকে,যেটা ঐই ফোনটির জন্যই নির্ধারিত।সাথে কিন্তু একটি চার্জিং ক্যাবল(ডাটা ক্যাবল)দেয়া থাকে,সবসময় চেষ্টা করবেন অর্জিনাল চার্জার বা চার্জিং এড্যাপতার ও ক্যাবল দিয়ে ফোনটি চার্জ করার।এতে ফোনের ব্যাটারি ভালো থাকে,ব্যাটারি কখনও ওভারচার্জ হয়না এবং ব্যাটারি কখনও ওভারচার্জের কারনে ফুলেও যায়না।কারন অরজিনাল চার্জার গুলোতে আসলে ফুল চার্জ হয়ে যাওয়ার পর অটোভাবে চার্জ অফ হয়ে যায় অর্থাৎ ব্যাটারিতে কখনও ওভারচার্জ বলে কিছু হয়না।আর ওভারচার্জের কারনে ব্যাটারি ফুলে গেল কিনা সেটা কিন্তু এখনকার স্মার্টফোনগুলোতে চেক করা যায়না।কারন বেশিরভাগ স্মার্টফোন গুলোতেই এখন নন রিমুভএবল ব্যাটারি দেয়া থাকে,অর্থাৎ ফোনের ব্যাককভার খোলা যায় না।এখন যাদের মোবাইলে ব্যাককভার খোলা যায় এবং ব্যাটারি আলাদা করা যায়,তাদের উচিৎ মঝে মাঝে ব্যাটারিটা চেক(পরিক্ষা)করে নেওয়া।যদি দেখেন যে ব্যাটারিটি একটু ফুলে যাচ্ছে তাহলে আপনার  ব্যাটারিটি বদলে নেয়া উচিৎ।আর যাদের ফোনে নন রিমুভএবল ব্যাটারি দেয়া(ফোনের ব্যাককভার খোলা যায়না)তারাও যদি একটু খেয়াল করে দেখেন যে ফোনের থিকনেসে কোন পরিবর্তন এসেছে কিনা তাহলেও কিন্তু বুঝতে পারবেন।যদি দেখেন ফোনটি একটু ফুলে গিয়েছে তাহলে আপনার নিকটতম মোবাইল সার্ভিসিং এর দোকানে গিয়ে ফোনটি পরিক্ষা করে নিতে পারেন।আপনার স্মার্টফোনের চার্জার কিংবা চার্জার ক্যাবল হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে চেষ্টা করবেনে সেম ব্রান্ডের(মানে একই মডেলের,একই কোম্পানির)চার্জার কিনে নিতে।যদি সেম ব্রান্ডের কেনা সম্ভব নাও হয় তাহলে চেষ্টা করবেন মার্কেট থেকে মানসম্মত মানের একটি ভালো চার্জার কিনে নিতে।


আরও জানুনঃ- Risky/dangerous android apps 2021 এই ৫ ধরনের অ্যাপস এড়িয়ে চলুন!!!!


২)আমাদের কিছু খারাপ অভ্যাসঃ-আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন যারা রাতের বেলা ফোন চার্জে দিয়ে ফোনটি বালিশের নিচে রেখে দিয়ে ঘুমাতে যান,কেউ কেউ আবার ফোন চার্জ হচ্ছে এমন অবস্থায় দীর্ঘসময় ফোনে অনেক কথা বলেন,গেমস খেলেন,ভিডিও দেখেন।ফোন চার্জে থাকা অবস্থায় আসলে এসব কাজ করা একদম উচিৎ নয়।একদম গুরুত্বপূর্ন কোন কাজ যদি আপনাকে ফোন চার্জ থাকা অবস্থায় করতেই হয়,তাহলে ফোনটা চার্জ থেকে খুলে কাজটি করা উচিৎ।কিন্তু ফোন চার্জে লাগিয়ে ফেসবুকিং করা,গেমস খেলা,ভিডিও দেখা এগুলো কিন্তু মোটেও গুরুত্বপূর্ন কাজের মধ্যে পরেনা।আর এই খারাপ অভ্যাস গুলোর কারনেই কিন্তু অনেক অনেক স্মার্টফোন Blast হয়ে ছোট বড় অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে সারা বিশ্বজুড়ে।যাদের এই খারাপ অভ্যাসগুলো আছে তারা দয়া করে এই অভ্যাসগুলো ত্যাগ করবেন।


আরও জানুনঃ-মোবাইলহ্যাক থেকে বাঁচার উপায় ২০২১


৩)আমাদের কিছু খামখেয়ালিপনাঃ-আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন তারা খেয়ালই করেননা তারা ফোনটা কোথায় রেখেছেন!!!অনেককেই দেখা যায় গাড়ির ড্যাশবোর্ডে বা গাড়ির সামনে রাখেন,যেখানে কিনা নিয়মিতভাবে রোদ পরছে,অনেকে আবার খেয়ালি করেন না যে তাদের ফোনটা রোদে পড়ে উত্তপ্ত হচ্ছে,আর বিশেষ করে কিছু আপু আর আন্টিরা আছেন তারা কিচেনে/রান্নাঘরে চুলার পাশে রেখে দেন।এমনিতেই স্মার্টফোনগুলো ব্যবহার করলেই গরম হয়ে যায় তারউপর যদি আপনি সেটাকে নিয়ে কোন গরম পরিবেশে রাখেন তাহলে সহজেই কিন্তু সেটা ঠান্ডা হবেনা।আর এই মাত্রাতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে Blast হওয়ার সম্ভবনা কিন্তু বেড়ে যায়।সেইসঙ্গে আর একটি জিনিস মনে রাখবেন গরম অবস্থায় কখনও ফোনটাকে কখনও চার্জে দিবেননা।যদি ইমারজেন্সিভাবে কখনও চার্জ দিতেই হয় তাহলে অন্তত ব্যাককভার খুলে চার্জ করবেন।


এগুলো মেনে চললে আপনার স্মার্টফোনটি Blast হওয়া থেকে কম ঝুকিতে থাকবে।তাহলে আপনি তো জানতে পারলেন কিভাবে আপনার স্মোর্টফোনটি Blast হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারেন!!! আপনার বন্ধুকে জানানোর দায়িত্ব কিন্তু আপনারই ।সুতরাং পোষ্টটি শেয়ার করে অবশ্যই আপনার বন্ধকে জানাবেন।হয়ত  আপনার একটি শেয়ারের জন্য আপনার প্রিয় বন্ধু তার ফোনটি নিরাপদে রাখতে পারবে।

 

 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post