কিভাবে সুখী হওয়া যায়?/জীবন কিভাবে সুন্দর করা যায়?/জীবনে সুখি হওয়ার ৩ টি উপায় 2021!!!

আমরা সবাই একটু আনন্দে বা সুখে থাকার জন্য অনেক কিছু করে থাকি।প্রতেকটি মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে থাকে একটু ভালোভাবে জীনটা কাটানোর জন্য।সুখ বা আনন্দ চাইনা এমন মানুষ কোথাও খুজে পাবেন না। সবাই তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে সুখ খুজে নিতে চেষ্টা করে।তাই আজকের ব্লগে আমরা দেখব কি করে আমার আনন্দে থাকতে পারি আমাদের জীবনে এবং বড় বড় মানুষ কিভাবে চলে আনন্দ পাবার জন্য??বিশেষ করে যে মানুষগন আনন্দ খুজে বেরাচ্ছেন এবং যারা একটু আনন্দে থাকতে চাইছেন কিন্তু পারছেন না,তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ন হবে আজকের এই ব্লগটি।সম্পূর্ন ব্লগটি পড়ার পর আপনি নিজেই বলবেন যেমন আছি তেমনি অনেক ভালো আছি !! চলুন তাহলে জেনে নিই জীবনে সুখি বা আনন্দে থাকতে হলে আমাদের কি কি করতে হবে???


কিভাবে সুখী হওয়া যায়জীবন কিভাবে সুন্দর করা যায়জীবনে সুখি হওয়ার ৩ টি উপায়!!!
জীবনে সুখি হওয়ার ৩ টি উপায়!!!


১)প্রথমেই আমরা Perfect Imperfections সম্পর্কে জানব। Perfect Imperfections এর মানে হলো নিঁখুত অস্পূর্নতা। অর্থাৎ যখনি আমরা কিছু নিয়ে ভাবি তখন অবশ্যই ভালো কিছু নিয়েই ভাবি,যেমন পারফেক্ট বন্ধু,পারফেক্ট চাকরি,পারফেক্ট জীবন ইত্যাদি।কিন্তু আপনার জীবনে সব কিছুই পারফেক্ট/ভালো হলেও আপনাকে সুখি করে তুলতে পারবে না।আপনি দেখবেন যে জিনিসগুলো নিয়ে খুশি ছিলেন বা কয়েকাটি জিনিস নিয়ে খুশি আছেন সেগুলো পারফেক্ট নয়।হাসি খুশি কিংবা সুখি মানুষ কখনও পারফেক্ট জিনিস চাইনা।এবং তারা কখনও তাদের জীবনকে সহজ করে তুলতে চাইনা।তারা কখনও বর্তমান পরিস্থিতি বাদ দিয়ে ভালো পরিস্থিতি নিয়ে ভাবেনা বরং তারা যেমন আছে তেমনটি নিয়েই খুশি থাকার চেষ্টা করেন এবং খুশিও হন।ভাবুন আপনার মনের/পারফেক্ট বাড়ি সেটা অনেক বড় হবে,দেখতে অনেক সুন্দর হবে,বাড়িতে অনেক কিছু থাকবে এমনটাই আমরা ভাবি।এসব ভাবতে গেলে অনেক সুন্দর লাগবে কিন্তু এটা সুধু ভাবনাই,বাস্তবে পুরোপুরি বিপরীত ঘটনা ঘটে থাকে।যারা খুব সুখে থাকেন তাদের বাড়িও কিন্তু পারফেক্ট নয়,তাদের বাড়িতে গেলে হয়ত ৯০% জিনিসত্র আপনার পছন্দ হবেনা,কিন্তু তাও তারা সুখি।তাই নিজের ভাবনা কে কখনও প্রশয় দিবেন না।চাই,আরও চাই,আরও বেশি চাই,এই ভাবনাটি যতক্ষন আপনার মাঝে থাকবে ততক্ষন আপনি সারাজিবন তপস্যা করলেও সুখি হতে পারবেনা।তাই আপনার যা কিছু আছে তাই নিয়েই আনন্দে থাকার চেষ্টা করুন দেখবেন একসময় সুখ খুজে পাবেন।


আরও পড়ুনঃ-মনের কথা/ মানুষের মনের কথা জানার মন্ত্র 


২)The Value of Time-সময়ের মূল্যঃ-আপনার জীবনে কোন জিনিসটা বেশি চান টাকা,শক্তি/ক্ষমতা,খ্যাতি/নাম ডাক?? এই জিনিসগুলো ছাড়াও যে জিনিটি আমাদের জিবনে বেশি দরকার সেটি হলো সময়।কারো সাথে আলাপ করতে গেলেও সময় লাগে,মজার কিছু করতে গেলেও সময় লাগে এবংএকটু ভালোভাবে বাঁচতে গেলেও সময়ের দরকার।কিন্তু যাদের কাছে এই সময় আছে তারাও অসুখি,তারাও আনন্দকে খুজে বেরাচ্ছে!! অথচ আপনাদের কাছে যে সময় আছে সেটাই কিন্তু সবচেয়ে বড় আনন্দ,এটি কিন্তু কেউ কখনও ভেবে দেখেননা।যারা জিবনে অনেক কিছু পেয়েছেন তারাও কিন্তু একটু সময়টাকে পাবার জন্য কাঁদে এবং সবকিছু থেকেও তাদের মনে আনন্দ নেই।তাই যাদের কাছে কোন কিছু নেই সুধুমাত্র সময় আছে,তারাই সবচেয়ে বেশি সুখি এবং আপনাকে খুশি থাকতে গেলে কোন জিনিসের প্রয়োজন নেই।আর মানুষের একটি রোগ হচ্ছে যেটা যাদের কাছে নেই সেটাই তাদের সুখ এনে দিতে পারে এমন ভাবনা-চিন্তা।কিন্তু এটা একদমই সঠিক নয়!!যাদের কাছে টাকা নেই তারা ভাবে টাকাতেই আনন্দ,যাদের বাড়ি নেই তাদের মনে হয় বাড়িতেই আনন্দ,এবং বিশ্বাস করুন যাদের হাত এবং পা এগুলোও নেই তাদের কাছে ওইটুকুতেই খুশি।তারা ভাবে শুধু তাদের হাত-পা থাকত তাহলে তাবাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি বা আনন্দিত ব্যক্তি হত।কিন্তু আপনি ভেবে দেখুন আপনার সব আছে,তাও কিন্তু আপনি আনন্দিত নন।তাই সবকিছু পাবার পরও শেষঅবধিতে সেই একাকিত্ব বোধই আপনাকে গ্রাস করবে।তাই আপনার মনে কখনও এই কথাগুলো যেন না আসে এবং যা আছে তাই ব্যবহার করুন তারপর দেখবেন খুশি আপনার কাছে আপনা আপনি চলে আসবে।


আরও পড়ুনঃ-সকালে ঘুম থেকে ওঠার উপকারিতা ২০২১


৩)এবার যেটা বলব সেটা প্রতেকরই জানা দরকার।আপনি আপনার বন্ধু-বান্ধবদের সাথে তথা বলতেই পারেন,আপনার সাথে অনেক মানুষের চেনা-শুনা থাকাই স্বাভাবিক,আপনি ঠাট্টা হাসি,মজা করতেই পারেন।কিন্তু আপনার ব্রেন/মস্তিষ্ক যেটা চায় সেটা হলো একটি অর্থপূর্ন সম্পর্ক এবং কিছু অর্থপূর্ন কথাবার্তা ।কারন সেটাই আপনার সবচেয়ে বেশি দরকার খুশি থাকার জন্য,খুশি মানুষজনের এটাই চাহিদা হয়ে থাকে।যে কোন একটি ব্যক্তির সাথে যারা অনেকটা সময় নিয়ে শান্তিপূর্নভাবে গভিরভাবে কথা বলতে পারবে।তারা একে অপরের মনটাকে চিনতে পারবে,মনটাকে বুঝতে পারবে,এই নয় যে ১০ মিনিট কথা বলে চলে গেলাম এটাই আনন্দ।আমাদের এই ব্যস্ততার জীবনে এটাই হয়ে উঠেছে একটি আনন্দের বিষয়।কিন্তু এটাতেই আমাদের আনন্দগুলো বেশি নষ্ট হয়!!যখনি কারো সাথে আলাপ-আলোচনা করবেন তখন একটু সময় নিয়ে কথা বলুন,তাকে বুঝার চেষ্টা করুন,সে ছেলে হোক বা মেয়ে হোক এমনকি আপনার পরিবারের মানুষদের সাথে একটু অনুভবের সাথে কথা বলার চেষ্টা করুন।কখনও তারাহুরা করবেন না,কিংবা অল্প সময় নিয়ে কথা বলবেন না,তাহলেই দেখবেন পুরানো মানুষ গুলোর মাঝেও নতুন ভাবে খুশি খুজে পাবেন।যে মানুষ জনের জীবরে বেশি বন্ধু-বান্ধব নেই,সে মানুষ গুলো অনেকটাই দুখি,এবং যাদের আছে তারাও দুখি।কারন উভয়েই একটি বাজে কাজ করে থাকেন সেটি হচ্ছে একে-অপরকে ঠিকমত না বুঝেই না অনুভব করেই কিছুক্ষনের জন্য কথা বলেন এবং আনন্দটাকে খুজে পাবার চেষ্টা করেন,এভাবে জীবনে কোন সময়েও আনন্দ পাওয়া সম্ভব নয়।আপনার বন্ধু-বান্ধব,আপনজন বা আপনার প্রিয় মানুষটার কথা ভাবুন,তাদের সাথে কি সত্যিই ইমোশনালভাবে জড়িয়ে আছেন,তাদেরকে কি সত্যিই আপনি ভালোভাবে চিনেন বা জানেন ও সময় হাতে নিয়ে শুধুমাত্র কথা বলার জন্য এবং এক অপরকে বুঝার অনুভব করার জন্য সময় কখনও দিয়েছেন বা এখনও কি দেন???একটু সুখি হবার জন্য বা খুশির জন্য আমরা অনেক কিছু কিনে থাকি।একবার আপনার মোবাইলের কথাই ভেবে দেখুন সেটাকে যখন কিনে ছিলেন তখন ভেবেছিলেন যে জীবনটাকে পরিবর্তন করে দিবে আপনার সেই ফোনটি,কিন্তু যখন কিনে নিলেন তখন কি সেই ফোনের খুশিটা সেরকমই ছিল??না!!সেরকম কোনদিনও থাকবে না এবং থাকতেও পারে না।যারা খুব খুশি মানুষ তারা কখনও খুশি কিনতে চায়না,অর্থাৎ তারা খুশির জন্য টাকাই খরচ করেনা।খুশি কেনার জন্য আপনার যদি টাকা খরচ করার ইচ্ছাই থাকে তবে টাকা গুলো গরিবদের মাঝে দান করেন,যার যেটা প্রয়োজন কিন্তু সে সেটা নিতে পারছে না, সেই জিনিসটি তাকে নিয়ে দেন দেখবেন ১০ গুন বেশি  খুশি অনুভব হবে আপনার।বড় বড় মানুষরা কেন দান করে জানেন??তারা দান করার মাধ্যমেই তাদের সুখ ও খুশি খুঁজে থাকে।


আরও পড়ুনঃ-জীবন কিভাবে সুন্দর করা যায় এমন ৬টি গুরুত্বপূর্ন টিপস।


আজকের এই টিপসগুলো যদি জীবনের চলার পথে কাজে লাগাতে পারেন,তাহলে দেখবেন আপনি আগেও খুশি ছিলেন এবং এখনও খুশিতেই আছেন।সেইসাথে বুঝতে পারবেন আপনি যে নতুন করে সুখ খুজে বেরাচ্ছেন এটাই আপনার দুঃখেন কারন।যদি ব্লগটি আপনার ভালো লেগে থাকে বা আপনার জীবনের জন্য যদি একটু উপকারী বলে মনে হয় তবে পোস্টটি অবশ্যই আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করবেন।।।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post